ভুমিকা
হিন্দু এবং মুসলমান পাক-ভারত-বাংলা উপমহাদেশের দু’টি প্রধান ধর্মীয় সম্প্রদায়। এই দুটি সম্প্রদায় যদি পরস্পর ঝগড়া বিবাদ না করে শান্তিতে সহ অবস্থান করে তাহলে এই উপমহাদেশে ধর্মীয় কারণে অশান্তির আগুন প্রজ্জ্বলিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বল্লেই চলে। আহামদী জামা’তের প্রতিষ্ঠাতা ১৯০৮ সনে,তাঁর তিরোধানের মাত্র দুদিন পুর্বে পয়গামে সোলেহ্ বা শান্তির বার্তা নামে একটি পুস্তক রচনা করেন, এটি তাঁর লিখিত শেষ পুস্তক। এতে তিনি হিন্দু এবং মুসলমানকে ধর্মীয় ব্যাপারে পারস্পরিক সহনশীলতা ও সমঝোতার প্রস্তাব দিয়ে গেছেন। ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা এবং ইসলামের অসাম্প্রদায়িক রূপটিকে তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে পুস্তকটিতে উপস্থাপন করেছেন। বিশ্বশ্রষ্টা আল্লাহ্র প্রাকৃতিক বা ইহ-জাগতিক দান যেমন সকল মানুষের জন্য তেমনি প্রকৃত ধর্মের শিক্ষাও সকলের জন্য। প্রকৃত ধর্ম বিভেদ শিক্ষা দেয় না, মিলনের আহŸান জানায়। আহমদী জামা’তের পবিত্র প্রতিষ্ঠাতা তাঁর প্রাপ্ত ঐশী জ্ঞানে বুঝতে পেরেছিলেন যে, হিন্দু এবং মুসলমানের ঝগড়ার ফলে অখন্ড উপমহাদেশটি খন্ডে খন্ডে বিভক্ত হয়ে যাবে এবং সমগ্র ভারতবর্ষে সাম্প্রদায়িকতার আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠবে। তাই তিনি মানবতার স্বার্থে আহবান জানালেন, ‘‘হে স্বদেশবাসী ভ্রাতৃবৃন্দ। সেই দিন আসিবার পূর্বে সতর্ক হউন। হিন্দু মুসলমানের পরস্পরের মধ্যে সন্ধি করিয়া ফেলুন। ’’আমাদের বিশ্বাস প্রতিশ্রæত মহাপুরুষের এই উপদেশ সময়মত গ্রহন করলে, এই উপমহাদেশে ‘সেই দিন’ আসত না, যেদিন অসংখ্য মানব সন্তান সাম্প্রদায়িকতার রোষানলের শিকার হয়ে অকালে প্রাণ দিল, দেশ খন্ড-বিখন্ড হল এবং মানুষ বার বার দু:খ-দুর্দশায় নিপতিত হল। তাই ভবিষ্যতে যাতে হীন সাম্প্রদায়িকতার ভয়াবহ কুফল পুনরায় কখনও এ উপমহাদেশে দেখা না দেয় সেই উদ্দেশ্য নিয়ে শান্তির কিছু কথা এ পুস্তিকায় লিপিবদ্ধ করলাম।
এ, টি, চৌধুরী
মুসলিম দৃষ্টিতে কৃষ্ণ ও বিবেকানন্দের দৃষ্টিতে ইসলাম
Categories: Bangla, Bangladesh, Hinduism, India, interfaith, Islam
